,

ফেনী পাউবোর বিরুদ্ধে মালিকানার বাড়ি ঘর ভাংচুরের অভিযোগ

সদর প্রতিনিধি: ফেনী শহরের নিকটবর্তী নতুন কারাগারের বিপরীতে দক্ষিণ কাজিরবাগে পাউবোর অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গার অভিযানে বৈধ মালিকানার বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘর বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব বাড়ির মালিকরা এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে ফেনী জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক এনএসআই ও ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের কাজিরবাগ মৌজার কুমাড়িয়া খালের উত্তরপার্শ্বে ভুক্তভোগিরা মৌরশ ও ক্রয়সূত্রে সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক ভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত ২৪ ডিসেম্বর পাউবোর উদ্যোগে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের মালিকীয় জায়গার ঘর-বাড়ি বোলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়।
দক্ষিণ কাজিরবাগের ক্ষতিগ্রস্থ অধিবাসি হাজী মমিন ভূঁইয়া জানান পাউবো তার মালিকানার কাজীরবাগ মৌজার বিএস দাগ নং-৩২১১, নিজাম উদ্দীনের মালিকানার বিএস দাগ নং-৩৩৪৭ শামছুন নাহারের বিএস দাগ নং-৩৩৪৪, রাজিয়া সুলতানার বিএস দাগ নং-৩৩৮৮, ছেমনা আক্তার বিএস দাগ নং-৩৩৮৭, আবদুল হক বিএস দাগ নং-৩১৪৮, আবদুল খালেক বিএস দাগ নং- ৩৩৮৮-এর নির্মিত বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় পাউবো কর্মকর্তারা। এছাড়া বিএস ৩৩৪৯ দাগের হাফেজ মোহা¥মদ বিলাল, বিএস ৩৩৪৬ দাগের মো. আমিরুল আলম ভূঁইয়া, বিএস ৩৩৮৮ দাগে মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন ভূঁইয়াসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তির মালিকানা ও ভোগ দখলকৃত জায়গা খালের দাবী করে নোটিশ পাঠায় ফেনী পাউবো।
পাউবো থেকে ব্যক্তি নামে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির উদ্দিন (অ. দা.) স্বাক্ষরিত প্রথম নোটিশ প্রেরণ করা হয় ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর। দ্বিতীয় নোটিশ প্রেরণ করা হয় ১৭ ডিসেম্বর। 

দ্বিতীয় নোটিশ পাবার পর গত ১৯ ডিসেম্বর ভুক্তভোগিরা পাউবোর নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্ছেদ অভিযান বাতিলের দাবী জানিয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফেনী পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে ২৪ ডিসেম্বর অভিযান চালিয়ে পাউবো কর্মকর্তারা শতভাগ মালিকানার বাড়িঘর ভাংচুর করে সীমাহীন ক্ষতি করেছেন বলে দাবী ভুক্তভোগিদের। ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখার সহকারি কমিশনার রাজীব দাশ পুরকায়স্থের নিকট তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে মো. আবদুল খালেক আবেদন করেন। এলএ শাখায় ১৯৮১ সালে পাউবো কর্তৃক কাজিরবাগ মৌজায় খালের জন্য জায়গা অধিগ্রহণের কোন প্রমাণ মিলেনি। ১৯৮১ সনে কাজিরবাগ মৌজায় খালের জন্য কোন জায়গা অধিগ্রহণ করা হয় মর্মে এ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান লিখিতভাবে জানান। 

তারা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ভুক্তভোগিদের তা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলি মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি খাল বা ভূমির বিষয়ে অভিজ্ঞ নন বলে জানিয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, ১৯৮১ সালের এক মামলায় সেখানকার জায়গাগুলো অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি অধিগ্রহণ বিষয়ে কোন কাগজপত্র দিতে পারেননি। খাল পুনঃ খননের একটি ট্রেসিংয়ে লাল কালির দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা একটি ম্যাপ দেন তিনি। এছাড়া এ প্রসঙ্গে যেসব কাগজপত্র দেয়া হয়েছে সেগুলোর কোনটিতেই অধিগ্রহণের কোন প্রমাণ নেই। সার্ভে ইঞ্জিনিয়ার মো. জহিরুল ইসলামও ১৯৮১ সালে জায়গা অধিগ্রহণের বিষয়ে জানান। কিন্তু তিনি এ প্রসঙ্গে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে
shares