,

উদ্বোধন হলো দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু

 লিটন সরকার বাদল: বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শীনবার সকালে গনভবন থেকে  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সেতু দুটির উদ্বোধন করেন।এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এ উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।সেখানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খোন্দকার, কুমিল্লার জেলা প্রশাসকসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রালয়ের একটি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত মাস আগে ঢাকা-চট্রগাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা জানান, এর মধ্য দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলল। সেতুর উপর আনুষ্ঠানিক গাড়ি চালিয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন সড়ক বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এসময় তারা সেতুর নির্মাণ কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন।নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৭ মাস আগে সেতু দুটির কাজ সম্পন্ন হয়।
জাপানি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মহাসড়কে বড় তিনটি সেতুর কাজ সম্পন্ন হলো।বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শেষ করে সরকারকে ৭৩৮ কোটি টাকা ফেরত দিল।এর ২ বছর আগে ওয়ানওয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ চলার কারণে এ সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীরা দীর্ঘ  যানজটে পড়ে।
এবার ঈদে সে ভোগান্তি থাকছে না। প্রধানমন্ত্রী চট্ট্রগ্রাম বিভাগের মানুষের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে এ সেতু দুটি উদ্বোধন করেছেন। কুমিল্লার চান্দিনার মহসিন কবির নামে এক যাত্রী বলেন, নতুন দুই সেতু চালু হলে এই মহাসড়কে যানজটের তীব্রতা কমবে। এতে অল্প সময়ে যাত্রীরা পৌঁছাতে পারবেন গন্তব্যে। ঈদ উপলক্ষে দু-একদিনের মধ্যেই বাড়িতে যাত্রা শুরু করবে ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু দুটি খুলে দেয়ার পর দেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষের এবারের ঈদ আনন্দেই কাটবে বলে তিনি মনে করেন।
কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনের হলেও যানবাহনের চাপ বাড়লে দুইলেনের মেঘনা ও গোমতী সেতুর দুইপাশে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে পরিবহন ব্যবসার ক্ষতি হয়। দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মহাসড়কে যানবাহনের জট সৃষ্টি হবে না। সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। মেঘনা গোমতি সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার জানান, ১৪‘শ ১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থ দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতু ১৬টি পিয়ার ও দুই পাশে দুটি এপার্টমেন্টের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পুরাতন মেঘনা-গোমতি সেতু মেরামতে ব্যয় হবে ৪‘শ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতু উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পর এখন শুরু হবে পুরাতন সেতুর নির্মাণ কাজ।মেঘনা গোমতি সেতুর আবাসিক প্রকৌশলী কবির আহমেদ জানান, ২০১৬ সালে জানুয়ারী মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার অনেক আগেই নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরাতন বিদ্যমান সেতুর পূর্ণবাসন কাজ শেষ হবে।জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টীল ন্যারো বক্সগার্ডারের ওপর এই সেতু নির্মিত হয়েছে। এ পদ্ধতিতে এটি বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম সেতু। এর আগে ভিয়েতনাম ও জাপানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। নতুন এবং পুরাতন দুটি সেতুরই ১‘শ বছরের বেশি আয়ুকাল হবে বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রকৌশলীরা।

 

Chat Conversation End

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে
shares