,

পূর্ব শত্রুতার জের ফেনীতে মহিলাকে মাথা কেটে ফেলার হুমকি

মো. হানিফ: ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়াতে এক মহিলাকে মাথা কেটে দেহ থেকে আলগা করে ফেলার হুমকি দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এসময় দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও রামদা নিয়ে তাকে কোপাতে গেলে মানবাধিকারের তদন্ত দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের দ. লেমুয়া গ্রামের বশিরউল্লাহ মুন্সী বাড়ির হাকিম আবুল হাশেমের মেয়ে শাহেনা আক্তারকে তার প্রতিপক্ষ খোরশেদ আলম, দেলোয়ার হোসেন ও ইমাম উদ্দীন প্রকাশ্য দিবালোকে দেহ থেকে মাথা আলগা করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শাহেনা জানান, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড এডুকেশনের ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর এরিয়া ইনচার্জ এমএ দেওয়ানী এবং তার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ. লেমুয়ায় শাহেনার উপর বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে যায়। তদন্তকারী দলের সাথে প্রতিপক্ষের খোরশেদ আলম ও অন্যান্য কথা বলার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় তারা শাহেনাকে সকলের উপস্থিতিতে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
শাহেনা সময়ের বাংলাদেশকে জানান, ২০১৭ সালের ১০ জুলাই তার ভাগ্নি রুমানা আক্তার উর্মিকে অপহরণ করে অজ্ঞাতে নিয়ে যায় খোরশেদ আলমের ভাগিনা সাইফুল ইসলাম। পরে ২০ জুলাই তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করে। একপর্যায়ে রুমানা অজ্ঞাত স্থান থেকে পালিয়ে আসার পর প্রতিপক্ষ শাহেনাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় শাহেনা বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জিআর নং ৪৬২/১৭ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সাইফুল ও তার স্বজনদের অত্যাচার ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা নং ৫৩/১৮ দায়ের করেন রুমানা। এদিকে শাহেনা ও তার ভাগ্নি রুমানাকে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(২)(৩) ধারা মোতাবেক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া রুমানার কাবিনশর্ত আদায়েও বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আসামীরা একাধিকবার কারাবরণ করার পরও বর্তমানে জামিনে থেকে শাহেনা ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহেনা ও তার পরিবার ফেনী সদর আসনের এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারী, পৌর মেয়র হাজী আলাউদ্দীন, ফেনী পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে
shares