,

ফেনী-১ আসনে মনোনয়ন নিলেন মহাজোট গঠনের অন্তরালের কারিগর নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনি নিজেকে অন্তরালে রাখতেই ভালোবাসতেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের চাওয়ার কাছে অবশেষে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তিনি। এ অন্তরালের কারিগর আলাউদ্দীন আহমেদ চে্ৗধুরী নাসিম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ৯ নভেম্বর শুক্রবার দলের মনোনয়নপত্র কিনেছেন নাসিম। ফেনী-১ আসনের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে।আওয়ামীলীগ তথা মহাজোট গঠনে যে‘কজন নিরলস পরিশ্রম করেছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে মহাজোট গঠন ও সম্প্রসারণে আওয়ামী লীগের পক্ষে অন্তরালে যে কজন নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ ব্যক্তিত্ব কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য ১৯৯৬ সালের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ছিলেন। বলা যায়, মহাজোট গঠনের অন্তরালের কারিগর তিনিই। ২০০৫ সাল থেকে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন নাসিম। এ জন্য বিএনপির সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে সাবেক এ মেধাবী আমলাকে।

তাঁকে পদোন্নতি বঞ্চিত হতে হয়েছে বিএনপি সরকার আমলে। তবুও একসময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্রলীগ নেতা নাসিম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সব মেধা বিলিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে ও রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত করতে। এর জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত করে পুরস্কৃতও করেছিলেন নাসিমকে। কিন্তু সাবেক এ আমলা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসতে চান না। হতে চান না মন্ত্রী কিংবা এমপিও। তাই দলের দায়িত্ব পেয়েও বিনয়ের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। আলাউদ্দিন নাসিম দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করে সর্বশেষ গত শনিবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেন। দলের জন্য তাঁর এসব অবদানের কথা অনেকেরই অজানা।
জাতীয় পার্টিকে মহাজোটে আনতে এইচ এম এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতির পক্ষে যোগাযোগ করেন তিনি। এই যাত্রার শুরু ২০০৫ সালে। শুরুর দিকে আলাউদ্দিন নাসিম জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলুকে নিয়ে মহাজোট গঠনের মিশন শুরু করেছিলেন। তার ফসল দুবার ঘরে তুলেছে আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও এরশাদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও গুরু দায়িত্ব পালন করেন নাসিম। এরশাদও মেধাবী এ আমলাকে পছন্দ করেন। কয়েক মাস আগে এরশাদ নিজেই এক সাক্ষাৎকারে মহাজোট গঠনের ক্ষেত্রে আলাউদ্দিন নাসিমের অবদানের কথা স্বীকার করেন। নাসিমের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, ২০০৬ সালে পল্টন ময়দানে মহাজোটের প্রথম সমাবেশে আওয়ামী লীগের এই নেতার একক প্রচেষ্টায় এরশাদ মঞ্চে উঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জাপা ও আওয়ামী লীগের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল, তাও মেটান আলাউদ্দিন নাসিম।
এমনকি রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন নিয়ে জাপার সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতা এরশাদের সঙ্গে ফয়সালা করেন নাসিম। জাপা পীরগঞ্জে নূর মণ্ডলকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু নাসিম সেই আসনটি পরে শেখ হাসিনার জন্য এরশাদের কাছ থেকে উপহার আনতে সফল হন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচন হয়নি। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হিট অ্যান্ড রানের তালিকায় থাকা অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে তিনি গুলশানের একটি হোটেলে মহাজোট গঠন বিষয়ে এরশাদ ও জাপা নেতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে বসেন।

এ খবর তৎকালীন সরকার জেনে যায়। তারেক রহমান নিজে এসে উপস্থিত হন সেই বৈঠকে। এরশাদের তৎকালীন এপিএস মেজর রেজাকে তিনি গালাগাল করে চলে গেলেও থেমে থাকেননি আলাউদ্দিন নাসিম। সব ভয় পেছনে ফেলে ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও অন্তরালে থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করেছেন তিনি। বৈরী পরিস্থিতিতেও তিনি দলের জন্য লন্ডনে শেখ রেহানার বাসার পাশের এক কফিশপেও বৈঠক করেন জাপা প্রতিনিধিদের সঙ্গে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলু। দলের বিভিন্ন বিষয়ে সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন নাসিম প্রতিবারই সাফল্যের সঙ্গে তা পালন করেছেন। নিভৃতচারী এ ব্যক্তি সর্বশেষ দলের বড় দায়িত্ব পাওয়ার পরও তা ফিরিয়ে দেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে
shares